এনবিআরের পরামর্শক কমিটির ৪৫তম সভায় বক্তারা

বাস্তবায়নযোগ্য হবে আগামী বাজেট থাকবে না প্রত্যাশার ফুলঝুরি

আগামী বাজেট লক্ষ্যভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট হবে। ব্যয়ের মহোৎসব ও প্রত্যাশার ফুলঝুরি থাকবে না।

আগামী বাজেট লক্ষ্যভিত্তিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট হবে। ব্যয়ের মহোৎসব ও প্রত্যাশার ফুলঝুরি থাকবে না। এনবিআরে অপারেশনাল সমস্যা সমাধানে অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশনে জোর দেয়া হবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের আয়োজনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৪৫তম সভায় এসব কথা বলেন দুই উপদেষ্টা ও এনবিআর চেয়ারম্যান। আগামী বাজেটে সাধারণ করদাতাদের জন্য বার্ষিক করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করেছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। এছাড়া নারী করদাতা ও ৬৫ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত এ পরামর্শক সভায় প্রধান অতিথি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট দেব। আমরা বাজেটে প্রত্যাশার ফুলঝুরি দেব না। আমরা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করছি।’

সভায় বিশেষ অতিথি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আমাদের বাজেটই করা হতো ব্যয়ের মহোৎসব করার জন্য। কিন্তু এবার আমরা লক্ষ্য ও ন্যায়ভিত্তিক বাস্তবায়নযোগ্য বাজেট দেব। প্রস্তাবগুলোতে ম্যাক্রো চ্যালেঞ্জ বিষয়ে কোনো কথাবার্তা নেই। প্রস্তাবগুলো অনেক বেশি বিস্তৃত ও অস্পষ্ট। আমরা কি আমাদের নিজস্ব কোম্পানিতে বা প্রতিষ্ঠানে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করেছি। শুধু সরকারকে দায় দেয়ার আগে নিজেদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। আমরা সবাই সব ধরনের কর অব্যাহতি যাচ্ছি। কিন্তু সরকার ও দেশ চালাতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দরকার হয়। প্রতি বছরই এনবিআরকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের দায় দেয়া হচ্ছে। আমরা যখন দায়িত্ব না নিয়ে এনবিআরকে প্রস্তাব দেব, এনবিআরও দায়িত্ব না নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কর আমাদের ওপরে আরোপ করবে। ঢাউস সাইজের প্রস্তাব না দিয়ে নির্দিষ্ট প্রস্তাব দিতে হবে। করদাতা ও কর গ্রহীতার মধ্যে এক ধরনের দূরত্ব লক্ষ্য করা যায়।

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, ‘সরকারকে ব্যবসা করা থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছি, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবেন। এক হাজারের বেশি প্রস্তাব দিয়েছে এফবিসিসিআই। কত দিনে পড়ে শেষ করব, বুঝব এগুলো যৌক্তিক কিনা? এত প্রস্তাব দিলে সরকারের পক্ষে প্রয়োগ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। এক হাজারের বদলে যদি ১৫টা সাজেশন দেন, তাহলে আমাদের পক্ষে প্রয়োগ করা সম্ভব। একদিনে এক হাজার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা না করে সারা বছর ধরে আলোচনা করা যেতে পারে।’ বেসরকারি খাতের কাছে আরো সুনির্দিষ্ট এবং গঠনমূলক বাজেট প্রস্তাব আহ্বান করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘এবারের বাজেটে অপারেশনাল সমস্যা সমাধানে আমরা জোর দিচ্ছি। অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশনেও জোর দেয়া হচ্ছে। এনবিআর এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে দূরত্ব কমাতে কর ব্যবস্থাপনার ডিজিটাইজেশন একটি বড় ভূমিকা রাখবে।

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর জন্য যুক্তি হিসেবে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান সাধারণ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন। এছাড়া তিনি সর্বনিম্ন ৫ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন। তৈরি পোশাকসহ রফতানিমুখী শিল্পে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে হ্রাস করে দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করার সুপারিশ করেন।

মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, ‘দেশের পটপরিবর্তনের পর অনেক ব্যবসায়ী গ্রুপকে বিশেষ উপলক্ষে এনবিআর থেকে কর তল্লাশি করা হচ্ছে, এটা যেন হয়রানিমূলক না হয়।’ জাহাজ নির্মাণ শিল্পের প্রতি বিশেষ নজর দেয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।

ব্যবসা-বাণিজ্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বস্ত্র মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ। তিনি বলেন, ‘এক সময় বিটিএমএ যন্ত্রাংশ আমদানি করত। যথাযথ হারে শুল্কও দেয়া হতো। এ নিয়ে বিতর্ক হয়নি। ছাড়পত্র বিটিএমএর পক্ষ থেকেই দেয়া হতো। কিন্তু এনবিআর পুরো বিষয়টি নিজের হাতে নেয়ার পর জটিলতা বেড়েছে। এ বাস্তবতায় তার পরামর্শ, এনবিআর নিজের সম্পদ গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করুক।’

আরও